দেশে ফসল উৎপাদনে চট্টগ্রাম অঞ্চল বেশ পিছিয়ে। গুণগত মান অন্যান্য অঞ্চলের মতো না হলেও প্রতি বছর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দেশের কৃষি উৎপাদনে ধানের দিকে বেশি নজর দেয়া হলেও বাজারে আশানুরূপ দাম পান না কৃষকরা। তাই ডালজাতীয় ফসল উৎপাদনে বেশি ঝুঁকছেন চট্টগ্রামের কৃষকরা। চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ অঞ্চলে ৯৩ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন হয়। যদিও বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ সময় উৎপাদন কমে ৯৩ হাজার ৬৩১ টনে নেমে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ধানসহ অন্যান্য ফসলের দাম বাড়লেও কৃষকদের উৎপাদন খরচের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য থাকে না। তবে ডালজাতীয় ফসলে উৎপাদন খরচ কম। তাই কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
এক দশক আগেও চট্টগ্রামে ডালের গড় আবাদ ছিল ৫০ হাজার হেক্টরের নিচে। অঞ্চলটির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ৮২ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমির ৭৬ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমিতেই ডালের আবাদ হয়েছে। এ জমিতে মসুর, ছোলা, মাষকলাই, মুগডাল, খেসারি, ফেলন, মটর ও অড়হর—এ আট ধরনের ডালের আবাদ হয়। তবে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চলতি অর্থবছর ডালের আবাদ কম হতে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ সময় মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮৫ হাজার টনে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৫ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে মোট ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৯২ টন।
এদিকে জেলাভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ডালের উৎপাদন হয় নোয়াখালী জেলায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ জেলায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে ৪৯ হাজার ৯৫০ টন খেসারি ডালের উৎপাদন হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছর ৩৩ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ২০০ টন।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব ধরনের ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। তবে ডালজাতীয় ফসল আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। এক দশক আগেও এ অঞ্চলে ডাল আবাদের প্রতি আগ্রহ ছিল না তাদের। এখন তা বেড়েছে। এ অঞ্চলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানোর কাজ চলমান আছে। সে লক্ষ্যে প্রণোদনা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’